বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চাকরি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রার্থীরা ChatGPT-এর মতো চ্যাটবট ব্যবহার করে দ্রুত ও নিখুঁত সিভি তৈরি করছেন, কিন্তু নিয়োগকর্তারা AI সফটওয়্যার দিয়ে সিভি স্ক্যান করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড ও ফরম্যাটের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে সিভির গুণগত মানের চেয়ে প্রযুক্তিগত ফিল্টারিং বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও AI ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক কোম্পানি প্রাথমিক সাক্ষাৎকার AI-চালিত ভিডিও বা চ্যাটবটের মাধ্যমে নিচ্ছে, যেখানে প্রার্থীর কথা বলার গতি, চোখের গতি, বিরতির দৈর্ঘ্য ইত্যাদি পরিমাপ করে স্কোর দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়া অনেক সময় প্রার্থীদের জন্য বিভ্রান্তিকর ও হতাশাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, প্রচুর আবেদন জমা পড়ার কারণে অনেক প্রতিভাবান প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতক ২০০টি আবেদন পাঠিয়েও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাড়া পাননি। একই সঙ্গে, অনেক কোম্পানি তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী খুঁজে পাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে কিছু প্রতিষ্ঠান বাস্তব জীবনের কাজের ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ পুনরায় গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন নিয়োগকারীদের জন্য কাজের বর্ণনা পুনর্লিখন এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে, AI-এর কারণে চাকরি বাজারে অনিশ্চয়তা ও জটিলতা বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল সাসকিন্ড বলেন, AI সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে আমাদের জীবন উন্নত করতে পারে, কিন্তু শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। ভবিষ্যতের জন্য শিশুদের মৌলিক পাঠ, গণিত ও সমালোচনামূলক চিন্তাধারা শেখানো জরুরি, কারণ AI-এর কারণে অনেক দক্ষতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশেও চাকরি প্রার্থীদের জন্য AI প্রযুক্তির প্রভাব বাড়ছে। স্থানীয় চাকরি বাজারে AI-ভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
সূত্র: Sur In English · 12 October 2026, 11:35
প্রকাশক: AmarAI

