কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পেশাদার সেবা খাতে রুটিন কাজগুলো দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের পদ্ধতি, প্রকল্প পরিচালনা এবং সাফল্যের মাপকাঠি পুনর্বিন্যাস করছে।
PwC U.K. এর মেট কুক এবং Certinia Inc. এর প্রসাদ নারাসিমহন সুলুরের মতে, সফল প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল উন্নত টুল ব্যবহার করেই থেমে থাকছে না, বরং তারা সম্পূর্ণ নতুনভাবে কাজের মূল্য সৃষ্টির পথ তৈরি করছে। AI শুধু কাজের গতি বাড়ানোর জন্য নয়, বরং পুরো ওয়ার্কফ্লো পুনর্গঠন করাই এখন মূল লক্ষ্য।
তবে AI গ্রহণের সঙ্গে আর্থিক লাভের ফাঁক এখনও বড়। PwC এর একটি জরিপে দেখা গেছে মাত্র ১২% সিইও AI থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর ফল পেয়েছেন। AI কে কেবল উৎপাদনশীলতার সরঞ্জাম হিসেবে না দেখে ব্যবসার মূল কার্যক্রমের সঙ্গে একীভূত করাই সফলতার চাবিকাঠি।
বিশেষ করে পেশাদার সেবায় দ্রুত কাজ শেষ করলেও প্রকল্পের সম্পূর্ণ ডেলিভারি দ্রুত হয় না। তাই AI-সহায়তায় কাজের প্রতিটি ধাপ পুনর্গঠন করা জরুরি।
বিশ্বাস ও শাসনব্যবস্থা AI এর পরবর্তী ধাপের মূল ভিত্তি। AI-র তৈরি ফলাফলগুলো মানুষের যাচাই ও অনুমোদন ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যা ব্যবসায়িক প্রসঙ্গ বুঝতে পারে, অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফলাফল যাচাই করে।
মানব বিচারবুদ্ধি এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ AI বিশ্লেষণ তৈরি করতে পারে কিন্তু পেশাদার দায়িত্ব বহন করতে পারে না। ভবিষ্যতে পেশাদার সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো AI-কে রুটিন কাজের জন্য ব্যবহার করবে এবং জটিল সমস্যার সমাধানে মানুষের দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেবে।
এই পরিবর্তন পেশাদার সেবার মডেলকেই বদলে দেবে, যেখানে প্রযুক্তি ক্ষমতা বাড়াবে এবং মানুষের অভিজ্ঞতা ব্যবসায়িক ফলাফলের গুণগত মান নির্ধারণ করবে।
সূত্র: Siliconangle · 11 October 2026, 02:22
প্রকাশক: AmarAI

