বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নেতৃত্বের জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশল স্পষ্টভাবে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন শিল্পের আধিপত্য ও প্রতিযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নত চিপ, ক্লাউড সেবা, AI মডেল ও অর্থায়ন একত্রিত করে একটি “ফুল-স্ট্যাক” AI রপ্তানি প্যাকেজ তৈরি করেছে যা নির্বাচিত দেশগুলোর জন্য উপলব্ধ।
অন্যদিকে, চীন একটি বহুপাক্ষিক ও সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, যেখানে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী অভিযোজিত এবং পরিচালিত AI মডেল সরবরাহের ওপর জোর দেয়। চীন ২৯টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশ্ব AI সহযোগিতা সংস্থা (WAICO) প্রতিষ্ঠা করেছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ ও সেমিনার সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়াও, চীন বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার সঙ্গে আন্তর্জাতিক AI অ্যাপ্লিকেশন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
চীনের এই কৌশল মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে কারণ এটি স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী AI প্রযুক্তি গ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলটি অনেকটাই প্রতিযোগিতামূলক এবং একক দিক থেকে নিয়ন্ত্রিত, যা অনেক দেশকে বিকল্প সহযোগিতার জন্য চীনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের নেতারা বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও স্বাধীন প্রযুক্তি গ্রহণের পক্ষে, যা চীনের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে, বিশ্বব্যাপী AI গ্রহণে চীনের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো AI প্রযুক্তি গ্রহণ ও স্থানীয়করণে চীনের সহযোগিতা থেকে উপকৃত হতে পারে। বহুপাক্ষিক ও অভিযোজিত AI মডেল গ্রহণের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব।
সূত্র: Foreign Policy · 8 October 2026, 02:29
প্রকাশক: AmarAI

