গার্টনারের ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০ প্রযুক্তি প্রবণতা তালিকাটি প্রধানত তথ্য কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপকদের জন্য তৈরি, যা তাদের বাজেট ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়ক হবে। এই তালিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রায় প্রতিটি প্রবণতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে এটি শুধুমাত্র মডেল বা চ্যাটবটের উপর নয়, বরং AI-এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন চিপ, এনক্রিপশন, নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক বিধিনিষেধের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়।
প্রবণতাগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত: আর্কিটেক্ট (মৌলিক কাজ যেমন কনফিডেনশিয়াল কম্পিউটিং, AI-নেটিভ ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম), সিন্থেসিস্ট (AI-এর ব্যবহার যেমন ফিজিক্যাল AI, ডোমেইন-স্পেসিফিক ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, মাল্টিএজেন্ট সিস্টেম), এবং ভ্যাঙ্গার্ড (নিরাপত্তা ও তদারকি যেমন জিওপ্যাট্রিয়েশন, ডিজিটাল প্রোভেনেন্স, AI সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম)।
AI-নেটিভ ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে রুটিন কাজগুলো AI মডেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করে, যার ফলে ছোট দল দ্রুত সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে। গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০% প্রতিষ্ঠান তাদের বড় ইঞ্জিনিয়ারিং দলকে ছোট AI-সহায়ক টিমে বিভক্ত করবে।
AI সুপারকম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মগুলো GPU, CPU, বিশেষায়িত AI চিপ ও নতুন কম্পিউটিং প্রযুক্তি একত্রিত করে বৃহৎ মডেল প্রশিক্ষণ ও সিমুলেশনের জন্য ব্যবহৃত হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০% বড় প্রতিষ্ঠান এই ধরনের হাইব্রিড কম্পিউটিং আর্কিটেকচার ব্যবহার করবে বলে গার্টনার আশা করছে।
কনফিডেনশিয়াল কম্পিউটিং ডেটা প্রসেসিংয়ের সময় ডেটাকে এনক্রিপ্টেড রাখে, যা ক্লাউড বা তৃতীয় পক্ষের অবিশ্বাসযোগ্য পরিবেশেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ২০২৯ সালের মধ্যে ৭৫% অপারেশন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাল্টিএজেন্ট সিস্টেমগুলো বিভিন্ন AI এজেন্টকে একত্রিত করে সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, যেখানে প্রতিটি এজেন্ট নির্দিষ্ট কাজের জন্য দায়িত্বশীল। এই পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয়করণকে আরও কার্যকর ও নমনীয় করে তোলে, তবে তদারকি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও বাড়ায়।
ডোমেইন-স্পেসিফিক ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো বিশেষ শিল্প বা কাজের জন্য প্রশিক্ষিত, যেমন আইন, চিকিৎসা ও অর্থনীতি, যা সাধারণ মডেলের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও সহজে যাচাইযোগ্য। ২০২৮ সালের মধ্যে এ ধরনের মডেলই অধিকাংশ এন্টারপ্রাইজ জেনারেটিভ AI মডেলের প্রধান অংশ হবে বলে গার্টনার পূর্বাভাস দিয়েছে।
ফিজিক্যাল AI রোবট, ড্রোন ও কারখানার যন্ত্রপাতিতে AI প্রয়োগ করে, যা পরিবেশ বুঝে কাজ করতে সক্ষম। এটি স্বয়ংচালিত গাড়ি, গুদাম রোবট ও মানবাকৃতির যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তব জগতে AI-এর ব্যবহার বাড়াবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাত ও শিল্পায়নে AI ও আধুনিক কম্পিউটিং প্রযুক্তির প্রভাব বাড়ছে। গার্টনারের এই প্রবণতাগুলো স্থানীয় ব্যবসা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপকদের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র: Quartz · 8 October 2026, 23:13
প্রকাশক: AmarAI

